বেসিক গার্মেন্টস ইন্সপেকশন প্রসেস -পর্বঃ ৩
বেসিক গার্মেন্টস ইন্সপেকশন প্রসেস -পর্বঃ ৩
ফ্যাব্রিক ইন্সপেকশন প্রসেস পার্ট-১ এবং ২ সম্পর্কে আমাদের আগের দুটি ব্লগে প্রি প্রোডাকশন এবং প্রোডাকশন ইন্সপেকশন প্রসেসের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছিলো।
ফাইনাল র্যান্ডম ইন্সপেকশন প্রসেসঃ
ফাইনাল র্যান্ডোম ইন্সপেকশন প্রসেস (FRI) এর উদ্দেশ্য হল প্রস্তুতকারকের দ্বারা উত্পাদিত পণ্যের গুনগত মান কাষ্টমারের চাহিদা পূরন করে। FRI প্রোডাকশনের কাজ শেষ করার পর করা হয়ে থাকে।
FRI-এ, প্রোডাক্ট গুলো এলোমেলো ভাবে সিলেক্ট করা হয়ে থাকে যাতে এই র্যান্ডোম স্যম্পলিংয়ের মাধ্যমে প্রোডাক্টের আসল গুনগত মান সম্পর্কে সঠিক ধারনা পাওয়া যায়। কোয়ালিটি কন্টোলের কর্মীরা প্রোডাক্ট গুলোর কোন ত্রুটি আছে কিনা তা চেক করে দেখে। যেমন সেলাইয়ে কোন প্রকার সমস্যা আছে কিনা, মাপ সঠিক আছে কিনা, বা যে ফ্যাব্রিক ইউজ করার কথা সেই ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তা ভালো ভাবে চেক করা হয়ে থাকে। যদি এই চেকের সময় কোন প্রকার সমস্যা পাওয়া যায় তাহলে সেই প্রোডাক্ট টি রিজেক্ট করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে আসলে আমরা কাষ্টমারের রিকোয়ার্মেন্ট অনুযায়ী প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে কিনা তা বুঝতে পারি। তাছাড়াও এই সময় আমরা প্রোডাক্ট গুলোর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টশন সঠিকভাবে করা হয়েছে কিনা, যেমন প্যাকেজিং এবং লেবেল সঠিকভাবে লাগানো হয়েছে কিনা তা চেক করা হয়।
FRI শেষ করার পর একটি ফাইনাল ইন্সপেকশন রিপোর্ট তৈরি করা হয়ে থাকে যেখানে সকল কিছু লিখা হয়। এই রিপোর্ট অনুযায়ী প্রোডাকশন কোন কাজে ভুল হয়ে থাকলে বা প্রোডাক্টে কোন প্রকার সমস্যা থাকলে তা আবার রি-ওয়ার্কের মাধ্যমে কাষ্টমারের রিকোয়ার্মেন্ট অনুযায়ী প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারে।
এরপর লট প্রস্তুত করা হয়। যেখান থেকে র্যান্ডমলি কার্টন নির্বাচন করা হয় AQL ইন্সপেকশনের জন্য।
AQL এর মূল পয়েন্ট গুলো হলোঃ
১. ডিজাইনঃ এখানে প্রথমেই চেক করা হয় প্রোডাক্টের ডিজাইন কাষ্টমারের ডিজাইনের সাথে মিলছে কিনা। তা না হলে প্রোডাক্ট টি রিজেক্টেড হবে।
২. কাপড়ঃ কাপড়ের মান কাষ্টমারের চাহিদা মোতাবেক আছে কিনা তা নিশ্চিত করা হয়।
৩. প্যাটার্ন্সঃ প্যাটার্ন অনুযায়ি ঠিক আছে কিনা তা চেক করতে হবে।
৪. কাটিংঃ কাটিং সঠিক আছে কিনা চেক করতে হবে।
৫. সেলাইঃ সেলাইয়ে কোন প্রকার সমস্যা আছে কিনা তা চেক করা লাগবে।
৬. ফিনিশিংঃ প্রোডাক্টের এপারেন্স বা বাহ্যিক কোন সমস্যা আছে কিনা তা চেক করতে হবে।
৭. গুনগত মান ঃ এই পর্যায়ে প্রোডাক্টের গুনগত মান সঠিক আছে কিনা তা চেক করা হয়।
৮. গুণমান নিয়ন্ত্রণঃ গুণমান বজায় রাখা নিশ্চিত করতে উত্পাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে গুণমান নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
৯. প্যাকেজিংঃ সঠিকভাবে প্যাকেজিং করা হয়েছে কিনা তা চেক করতে হবে।
১০. লেবেলিং এবং ট্যাগঃ লেবেলিং ও ট্যাগ সঠিক আছে কিনা তা চেক করা লাগবে।
র্যান্ডম ইন্সপেকশন পদ্ধতিঃ
প্রথমে লট সাইজ চেক করা লাগবে।লট সাইজ অনুযায়ী দেখতে হবে স্যম্পলে কত গুলো প্রোডাক্ট চেক করা লাগবে। তারপর সেই প্রোডাক্ট গুলো চেক কমপ্লিট হওয়ার পর কোন ত্রুটি পাওয়া গেলে চার্ট চেক করে দেখতে হবে যে কতো গুলো ডিফেক্ট এক্সেপ্ট করা যাবে। যদি চার্ট অনুযায়ী যেই কয়টি ত্রুটি এক্সেপ্ট করা যাবে তার থেকে বেশি ডিফেক্ট পাওয়া যায় তবে পুরো লটটি রিজেক্ট করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই